.
Oxford University Press থেকে প্রকাশিত Introduction to Women's and Gender Studies : An Interdisciplinary Approach ( 1st Edition, 2016) বইয়ের পঞ্চম অধ্যায়ে Plato and same-sex sexuality নামে একটি লেখা আছে। বইটির লেখক Melissa J. Gillis ও Andrew T. Jacobs। লেখাটি পড়ে আমি যা বুঝেছি সেটা নিজের ভাষায় উল্লেখ করছিঃ
প্লেটো ও সম-লৈঙ্গিক যৌনতা *
পাশ্চাত্য চিন্তার ইতিহাসে প্লেটো একজন বিশিষ্ট ও প্রভাবশালী দার্শনিক। তাঁর জীবনকাল খ্রিঃপূঃ ৪২৮ থেকে খ্রিঃপূঃ ৩৪৭ পর্যন্ত। তিনি সক্রেটিসের ছাত্র এবং অ্যারিস্টটলের শিক্ষক ছিলেন।একসময় প্লেটো লিখেছিলেন, পুরুষের মধ্যে কামোদ্দীপক প্রেমের সম্পর্ক হলো উৎকৃষ্ট সম্পর্ক। যদিও তিনি মনে করতেন যৌন সংসর্গ বিহীন সম্পর্কই সর্বোৎকৃষ্ট। ' প্লেটোনিক সম্পর্ক' বলে যে পরিভাষাটি আমরা জানি, এটি কিন্তু এই ধারণা থেকেই এসেছে। তবে বর্তমানে " প্লেটোনিক সম্পর্ক " কথাটা বলতে আমরা যৌনসংসর্গ বিহীন সম্পর্কই বুঝে থাকি। যদিও প্লেটোর কথা অনুযায়ী , যে সম্পর্ক কামোদ্দীপক অথচ যৌন সংসর্গ মুক্ত সেটিই সর্বোৎকৃষ্ট। 'ফিড্রাস' এ প্লেটো সক্রেটিসকে দিয়ে বলিয়েছেন," প্রেমিকযুগল [ প্লেটোর সংলাপে Pairs of lover বলতে গিয়ে eromenoi( lover) ও erastoi ( beloved) শব্দ দুটি ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলায় প্রেমিক ও প্রেমাস্পদ শব্দদুটি ব্যবহার করা যেতে পারে ] স্বর্গ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারত , যদি তারা হৃদয়ের সেই বাসনা নিয়ে অংশগ্রহণ করতে পারত - যা কেবল অধিক আনন্দের জন্য। ( Crompton, 2003, p.60-61).
Crompton বলেছেন, সাধারণভাবে বললে, প্লেটোর সংলাপে সম- লিঙ্গের প্রতি কামোদ্দীপক প্রসঙ্গের ছড়াছড়ি দেখা যায় (p.1)। যদিও প্লেটোর শেষ রচনা The Laws এ তাঁকে বিপরীত মত প্রদান করতে দেখা যায় ( Hubbard, 2003, p.9)। সেই রচনায় প্লেটো বিপরীত লিঙ্গের মধ্যে যৌন সংগমকে বলেছেন " স্বাভাবিক " ( natural) এবং নারী ও পুরুষের মধ্যে সমকামিতাকে বলেছেন ' অস্বাভাবিক '(unnatural) .( Jowett,1937,p. 418)
প্লেটো সম- লিঙ্গ ও বিপরীত লিঙ্গের প্রতি যৌন তাড়নার উদ্ভব সম্পর্কেও লিখেছেন। প্লেটোর 'সিম্পোজিয়াম' এ অ্যারিস্টোফেনিসকে দিয়ে মানুষের উদ্ভব সম্পর্কে একটি গল্প বলিয়েছেন। গল্পটি এরকম: মানুষের উৎপত্তির সময় প্রত্যেকে চার পা ওয়ালা জীব ছিল, এরপর দেবতা জিউস প্রত্যেককে কেটে অর্ধেক করেছেন। প্রতিটি অর্ধেক অংশ তার সঙ্গীর সাথে পুনর্মিলন চায় এবং এই গল্প সত্তা হিসেবে মানুষের প্রকৃতি বর্ণনা করে-
যে পুরুষেরা একসময় androgynous ( অর্থাৎ অর্ধেক পুরুষ ও অর্ধেক নারীর সমন্বয়ে গঠিত) ছিল, তারা নারীর প্রতি আকৃষ্ট হয়। ব্যাভিচারী পুরুষ এ ধারা থেকে উৎসারিত এবং পুরুষের প্রতি যৌন বাসনার অনুবর্তী ব্যাভিচারী নারীও এই ধারা উদ্ভুত। কিন্তু যে নারীরা নারীর অংশ ছিল ( অর্থাৎ দুই নারীর অর্ধাংশ সমন্বিত যারা ছিল) তারা পুরুষদের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে না, বরং নারীর প্রতি আসক্ত হয়৷ সমকামী নারীরা ( লেসবিয়ান) এ ধরনের। আর যারা পুরুষের খন্ডিত অংশ তারা পুরুষের অনুগামী হয়, তরুণ বয়সে তারা অন্য পুরুষের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে এবং তাদের আলিঙ্গন করে ( ব্যবহৃত গ্রীক ক্রিয়াটি যৌনসংসর্গ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়) ; এই বালক ও তরুণরাই সর্বোৎকৃষ্ট, কারণ এদের মধ্যে অধিক পুরুষালী বৈশিষ্ট্য রয়েছে।( Crompton, 2003,p.58)
উদ্ধৃত অংশটি সমকালীন পাশ্চাত্য ধারণা অনুযায়ী পুরুষের সম-লৈঙ্গিক বাসনার পক্ষে এক বিরল সমর্থন। প্লেটো স্পষ্টভাবে পুরুষালী বৈশিষ্ট্যেকে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি বাসনার সাথে সম্পর্কিত করেননি বরং সম্পর্কিত করেছেন সম-লৈঙ্গিক বাসনার সাথে।
Oxford University Press থেকে প্রকাশিত Introduction to Women's and Gender Studies : An Interdisciplinary Approach ( 1st Edition, 2016) বইয়ের পঞ্চম অধ্যায়ে Plato and same-sex sexuality নামে একটি লেখা আছে। বইটির লেখক Melissa J. Gillis ও Andrew T. Jacobs। লেখাটি পড়ে আমি যা বুঝেছি সেটা নিজের ভাষায় উল্লেখ করছিঃ
প্লেটো ও সম-লৈঙ্গিক যৌনতা *
পাশ্চাত্য চিন্তার ইতিহাসে প্লেটো একজন বিশিষ্ট ও প্রভাবশালী দার্শনিক। তাঁর জীবনকাল খ্রিঃপূঃ ৪২৮ থেকে খ্রিঃপূঃ ৩৪৭ পর্যন্ত। তিনি সক্রেটিসের ছাত্র এবং অ্যারিস্টটলের শিক্ষক ছিলেন।একসময় প্লেটো লিখেছিলেন, পুরুষের মধ্যে কামোদ্দীপক প্রেমের সম্পর্ক হলো উৎকৃষ্ট সম্পর্ক। যদিও তিনি মনে করতেন যৌন সংসর্গ বিহীন সম্পর্কই সর্বোৎকৃষ্ট। ' প্লেটোনিক সম্পর্ক' বলে যে পরিভাষাটি আমরা জানি, এটি কিন্তু এই ধারণা থেকেই এসেছে। তবে বর্তমানে " প্লেটোনিক সম্পর্ক " কথাটা বলতে আমরা যৌনসংসর্গ বিহীন সম্পর্কই বুঝে থাকি। যদিও প্লেটোর কথা অনুযায়ী , যে সম্পর্ক কামোদ্দীপক অথচ যৌন সংসর্গ মুক্ত সেটিই সর্বোৎকৃষ্ট। 'ফিড্রাস' এ প্লেটো সক্রেটিসকে দিয়ে বলিয়েছেন," প্রেমিকযুগল [ প্লেটোর সংলাপে Pairs of lover বলতে গিয়ে eromenoi( lover) ও erastoi ( beloved) শব্দ দুটি ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলায় প্রেমিক ও প্রেমাস্পদ শব্দদুটি ব্যবহার করা যেতে পারে ] স্বর্গ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারত , যদি তারা হৃদয়ের সেই বাসনা নিয়ে অংশগ্রহণ করতে পারত - যা কেবল অধিক আনন্দের জন্য। ( Crompton, 2003, p.60-61).
Crompton বলেছেন, সাধারণভাবে বললে, প্লেটোর সংলাপে সম- লিঙ্গের প্রতি কামোদ্দীপক প্রসঙ্গের ছড়াছড়ি দেখা যায় (p.1)। যদিও প্লেটোর শেষ রচনা The Laws এ তাঁকে বিপরীত মত প্রদান করতে দেখা যায় ( Hubbard, 2003, p.9)। সেই রচনায় প্লেটো বিপরীত লিঙ্গের মধ্যে যৌন সংগমকে বলেছেন " স্বাভাবিক " ( natural) এবং নারী ও পুরুষের মধ্যে সমকামিতাকে বলেছেন ' অস্বাভাবিক '(unnatural) .( Jowett,1937,p. 418)
প্লেটো সম- লিঙ্গ ও বিপরীত লিঙ্গের প্রতি যৌন তাড়নার উদ্ভব সম্পর্কেও লিখেছেন। প্লেটোর 'সিম্পোজিয়াম' এ অ্যারিস্টোফেনিসকে দিয়ে মানুষের উদ্ভব সম্পর্কে একটি গল্প বলিয়েছেন। গল্পটি এরকম: মানুষের উৎপত্তির সময় প্রত্যেকে চার পা ওয়ালা জীব ছিল, এরপর দেবতা জিউস প্রত্যেককে কেটে অর্ধেক করেছেন। প্রতিটি অর্ধেক অংশ তার সঙ্গীর সাথে পুনর্মিলন চায় এবং এই গল্প সত্তা হিসেবে মানুষের প্রকৃতি বর্ণনা করে-
যে পুরুষেরা একসময় androgynous ( অর্থাৎ অর্ধেক পুরুষ ও অর্ধেক নারীর সমন্বয়ে গঠিত) ছিল, তারা নারীর প্রতি আকৃষ্ট হয়। ব্যাভিচারী পুরুষ এ ধারা থেকে উৎসারিত এবং পুরুষের প্রতি যৌন বাসনার অনুবর্তী ব্যাভিচারী নারীও এই ধারা উদ্ভুত। কিন্তু যে নারীরা নারীর অংশ ছিল ( অর্থাৎ দুই নারীর অর্ধাংশ সমন্বিত যারা ছিল) তারা পুরুষদের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে না, বরং নারীর প্রতি আসক্ত হয়৷ সমকামী নারীরা ( লেসবিয়ান) এ ধরনের। আর যারা পুরুষের খন্ডিত অংশ তারা পুরুষের অনুগামী হয়, তরুণ বয়সে তারা অন্য পুরুষের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে এবং তাদের আলিঙ্গন করে ( ব্যবহৃত গ্রীক ক্রিয়াটি যৌনসংসর্গ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়) ; এই বালক ও তরুণরাই সর্বোৎকৃষ্ট, কারণ এদের মধ্যে অধিক পুরুষালী বৈশিষ্ট্য রয়েছে।( Crompton, 2003,p.58)
উদ্ধৃত অংশটি সমকালীন পাশ্চাত্য ধারণা অনুযায়ী পুরুষের সম-লৈঙ্গিক বাসনার পক্ষে এক বিরল সমর্থন। প্লেটো স্পষ্টভাবে পুরুষালী বৈশিষ্ট্যেকে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি বাসনার সাথে সম্পর্কিত করেননি বরং সম্পর্কিত করেছেন সম-লৈঙ্গিক বাসনার সাথে।
0 মন্তব্যসমূহ